খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার ঘটনায় উদ্ধার করা দেহের অংশগুলো তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান নিহতের চাচাতো ভাই রিফাতের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ মে মোকাররম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর রোববার (১৭ মে) মান্ডার প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রাত আড়াইটার দিকে পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে দেহের অবশিষ্ট মাথা উদ্ধার করা হয় বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এভাবে মরদেহের আটটি অংশ উদ্ধার সম্পন্ন হয়।
মুগদা থানার এসআই মো. আবু রায়হান জানান, উদ্ধার কার্যক্রমের সময় প্রথমে সাতটি অংশ পাওয়া গেলেও মাথা পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতের দিকে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোকাররমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম সোহরাব মিয়া। পরিবারে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। মরদেহ গ্রহণের পর পারিবারিকভাবে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে জানাজার পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় নিহতের চাচাতো ভাই রিফাত বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যা পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এদিকে ঘটনার তদন্তে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১), তার বান্ধবী হেলেনা বেগম (৪০) এবং হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মিলে মোকাররমকে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
র্যাব আরও জানায়, এ ঘটনায় হেলেনা বেগম ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দরামপুর এলাকায়। তবে মূল অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
ঘটনাটি রাজধানীতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ উদঘাটনে কাজ চলছে।