সিলেটের মাঠে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট ম্যাচে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় পর্বে দারুণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক ধস নামে, যার ফলে সফরকারীরা বড় ধরনের চাপে পড়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে ইনিংস গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংসকে স্থিতিশীল করার প্রয়াস চালান। তবে তার এই প্রতিরোধও শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় ব্যক্তিগত ৭১ রানের মাথায়। তাইজুল ইসলামের নিখুঁত লাইন ও লেন্থের একটি ডেলিভারিতে তিনি রক্ষণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কিনারা লাগান এবং বলটি শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে নিরাপদে ধরা পড়ে। ঘটনাটির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক ছিল, শান মাসুদের ৭১ রানের স্কোরটি যেন মাহমুদুল হাসান জয়ের জার্সি নম্বরের সঙ্গে এক ধরনের প্রতীকী মিল তৈরি করে।
এর আগে একই পর্বে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম ফিরে যান। শান মাসুদের সঙ্গে তিনি ৯৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন, যা পাকিস্তানের ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছিল। কিন্তু তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সেই জুটি ভেঙে যায়। বাবর আজম উইকেটরক্ষকের পেছনে লিটন দাসের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন, যা ম্যাচের গতি বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে সৌদ শাকিলও বেশি দূর এগোতে পারেননি। নাহিদ রানা অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল করেন, যেটি তাড়া করতে গিয়ে তিনি উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এই ধারাবাহিক সাফল্যে বাংলাদেশের বোলাররা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয় এবং দ্রুত উইকেট পতন ঘটতে থাকে।
শান মাসুদ এক প্রান্ত আগলে রাখলেও তার বিদায়ের পর পাকিস্তানের ইনিংস কার্যত ভেঙে পড়ে। মধ্য ও নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা দ্রুত উইকেট হারাতে থাকেন, ফলে সফরকারীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের বোলাররা পরিকল্পিত লাইন, লেন্থ এবং ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে।
এই অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে পড়ে। দর্শক ও সমর্থকদের মধ্যে এখন জয়ের প্রত্যাশা তীব্র হয়ে উঠেছে, কারণ পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ প্রায় ভেঙে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
উইকেট পতনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| ব্যাটসম্যান |
রান |
আউটের ধরন |
বোলার |
ফিল্ডার |
| বাবর আজম |
— |
ক্যাচ |
তাইজুল ইসলাম |
লিটন দাস |
| সৌদ শাকিল |
— |
ক্যাচ |
নাহিদ রানা |
লিটন দাস |
| শান মাসুদ |
৭১ |
ক্যাচ |
তাইজুল ইসলাম |
মাহমুদুল হাসান জয় |
সব মিলিয়ে ম্যাচের এই পর্বটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সফল সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিকল্পিত বোলিং আক্রমণ, ধারাবাহিক চাপ এবং দারুণ ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দল ম্যাচের দিক সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা, যেখানে জয় বাংলাদেশের হাতছানি দিচ্ছে।