কিংসের নাটকীয় জয়, মোহামেডানের বিপক্ষে ফেডারেশন কাপ শিরোপা
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে। ফাইনালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টের ট্রফি নিজেদের করে নেয় কিংসরা, যা তাদের ফেডারেশন কাপ ইতিহাসে হ্যাটট্রিক শিরোপা।
বুধবার (২০ মে) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচ শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। গ্যালারিতে দর্শকদের ঢাক-ঢোলের শব্দ ও আবেগঘন পরিবেশে ম্যাচের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মাঠের এক পাশে দেখা যায় মোহামেডানের প্রয়াত কিংবদন্তি সমর্থক আতাউর রহমান ওরফে আতা ভাইয়ের একটি বড় প্রতিকৃতি, যা ম্যাচ পরিবেশে বিশেষ আবেগঘন মাত্রা যোগ করে।
ম্যাচের শুরুতেই মোহামেডান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যায়। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তাদের উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ। এই গোলের মাধ্যমে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস দ্রুতই জবাব দেয়। ৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা এবং স্পট কিক থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ড্যারিয়েলটন গোমেজ। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
এরপর ম্যাচের ২৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় মোহামেডান। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মোজাফফরভ। তার শট গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দারুণভাবে রুখে দিয়ে কিংসকে ম্যাচে ধরে রাখেন।
চাপের মধ্যেও মোহামেডান আবার এগিয়ে যায় ৩৫ মিনিটে। ডান দিক থেকে আসা নিখুঁত ক্রস থেকে সৌরভ দারুণ প্লেসিংয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মোহামেডান।
দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংস আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে। শুরু থেকেই তারা বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। এর ফল আসে ৫০ মিনিটে, যখন ড্যারিয়েলটন গোমেজ তার দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে আবার সমতা ফেরান। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
এরপর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ৭৫ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন ড্যারিয়েলটন গোমেজ। তিনি তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং বসুন্ধরা কিংসকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ড্যারিয়েলটন গোমেজ টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ১২-তে উন্নীত করেন। চলতি লিগ মৌসুমে তিনি করেছেন ১৭ গোল, যা তার ধারাবাহিক ফর্মেরই প্রমাণ।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতে নেয়, যা বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে তাদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করে।
পুরো ম্যাচজুড়ে একাধিকবার পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসার সক্ষমতা, পেনাল্টি মিস ও গুরুত্বপূর্ণ সেভ, এবং হ্যাটট্রিক করা ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ফাইনালটি একটি উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত হয়।