খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুইজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা। আটককৃতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বিএনপি নেতার স্ত্রী এবং অন্যজন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত একজন রোহিঙ্গা নাগরিক।
গত বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের বাসভবনে এই অভিযান চালানো হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল আকস্মিকভাবে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে বাড়িটি থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযানের সময় আরও ৩ থেকে ৪ জন মাদক কারবারি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদ্বয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিচে আটককৃতদের বিস্তারিত পরিচয় টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | আটককৃত ব্যক্তির নাম | বয়স | সামাজিক ও আবাসিক পরিচয় |
| ০১ | ছালেহা বেগম | ৪৫ বছর | স্বামী: নজরুল ইসলাম (সহ-সভাপতি, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপি), রামু, কক্সবাজার। |
| ০২ | মোহাম্মদ হাসিম ওরফে ওসমান | ৩৫ বছর | রোহিঙ্গা নাগরিক, বাসিন্দা: থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩, উখিয়া, কক্সবাজার। |
অভিযান ও মাদক উদ্ধারের এই ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান যে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত অঞ্চল থেকে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। মামলার এজাহারে পলাতক আসামিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও উল্লেখ করেন যে, মাদক কারবারের সাথে জড়িত এই চক্রটির অন্যান্য পলাতক সদস্যদের অবস্থান চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের এই যৌথ তৎপরতা আগামীতেও কঠোরভাবে বজায় থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।