খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় আকস্মিক বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় দাদা-নাতিসহ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠ এবং গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের মাঠে পৃথক এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন মাঠে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং অন্যজন মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।
রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল বজ্রপাতে এই তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পারইল ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস ফকির ও তাঁর নাতি তারেক ফকির পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠে অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে ধান কাটার কাজ করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই দাদা ও নাতি উভয়ের মৃত্যু হয়।
অন্য এক ঘটনায়, একই সময়ে উপজেলার গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামে বৃষ্টি শুরু হলে নয়ন তালুকদার নামে এক যুবক মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে বিকেলবেলায় স্থানীয় লোকজন মাঠে গিয়ে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বজ্রপাতের কারণে যুবকের মাথার চুল এবং পরনের কাপড় পোড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বজ্রাঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
| নিহত ব্যক্তির নাম | বয়স | গ্রাম ও ঠিকানা | পারিবারিক সম্পর্ক/পরিচয় | দুর্ঘটনার সময়কার কার্যক্রম |
| আক্কাস ফকির | ৫৮ বছর | পারইল ফকিরপাড়া, রানীনগর | মৃত আসাদ ফকিরের ছেলে (সম্পর্কে তারেকের দাদা) | জ্যাঠা মাঠে কৃষিশ্রমিক হিসেবে ধান কাটছিলেন। |
| তারেক ফকির | ২৪ বছর | পারইল ফকিরপাড়া, রানীনগর | আমিনুরের ছেলে (সম্পর্কে আক্কাস ফকিরের নাতি) | জ্যাঠা মাঠে কৃষিশ্রমিক হিসেবে ধান কাটছিলেন। |
| নয়ন তালুকদার | ২৬ বছর | গুয়াতা আটনিতাপাড়া, রানীনগর | হাশেম তালুকদারের ছেলে (স্থানীয় যুবক) | মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়েছিলেন। |
স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, বজ্রপাতের এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পর নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঠে কর্মরত কৃষক ও সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার এবং মেঘের ডাক শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন।