খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে ২০১৯ সালের ভারতের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হামজা বুরহান। অপরাধ জগতে সে ‘ডক্টর’ নামেও পরিচিত ছিল। মুজাফফরাবাদ নামক এলাকায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী তার ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই তার শরীরে একাধিক বুলেট বিদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। নিহত হামজা বুরহান ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের মূল বাসিন্দা ছিল বলে জানা গেছে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) একটি গাড়ি বহরকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। ভারতের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এই হামলার নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছিল হামজা বুরহান ওরফে ‘ডক্টর’। ঘটনার পর থেকেই সে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আত্মগোপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
নিচে পুলওয়ামা হামলা এবং সাম্প্রতিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| নিহত ব্যক্তির নাম | হামজা বুরহান (ছদ্মনাম: ‘ডক্টর’) |
| মূল বাসস্থান | জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত |
| অপরাধের বিবরণ | ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী |
| পুলওয়ামা হামলার তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ |
| পুলওয়ামা হামলায় ক্ষয়ক্ষতি | ৪০ জন সিআরপিএফ (CRPF) সদস্য নিহত |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | মুজাফফরাবাদ, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK) |
| হামলাকারীর পরিচয় | অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী |
| মৃত্যুর কারণ | একাধিক বুলেট বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আঘাত |
মুজাফফরাবাদে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কে বা কারা এই হামলার সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা ঘটনার পরপরই স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত একাধিক সন্ত্রাসী ও হামলার পরিকল্পনাকারীদের অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।