খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (২৫ মে) সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান যে, কঙ্গোর সংঘাত-কবলিত এলাকায় ইবোলা মোকাবিলায় নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার ফলে বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে অন্তত ১০১ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের বিষয়টি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে ২৩ মে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির তিনটি প্রদেশে মোট ৮৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০৪ জন ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও মহাপরিচালক তার সর্বশেষ বার্তায় নতুন করে মৃতের কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিচে ডিআর কঙ্গোর বর্তমান ইবোলা পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | পরিসংখ্যান/তথ্য |
| সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা | ৯০০+ জন |
| ল্যাবরেটরি নিশ্চিত সংক্রমণ | ১০১ জন |
| মৃতের সংখ্যা (মন্ত্রণালয় অনুযায়ী) | ২০৪ জন |
| আক্রান্ত প্রদেশ সংখ্যা | ৩টি |
| ভাইরাসের ধরন | বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) |
| ঘোষণার তারিখ | ১৫ মে |
ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ (রক্ত, লালা, ঘাম ইত্যাদি) বা এসব তরল লেগে থাকা কোনো বস্তুর সরাসরি সংস্পর্শে আসলে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে তীব্র জ্বর, পেশিব্যথা এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ দেখা দেয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি মানবদেহের একাধিক অঙ্গ বিকল করে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। এবারের সংক্রমণের পেছনে ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতি দায়ী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই নির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা শতভাগ কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফ্রিকা মহাদেশে ইবোলা ভাইরাসের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। গত প্রায় পাঁচ দশকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কঙ্গোর বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ডব্লিউএইচও এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইবোলা মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। সংঘাত-কবলিত অঞ্চলে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।