খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সান মারিনোর বিপক্ষে আসন্ন ফিফা প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর জাতীয় দলের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। যদিও জাতীয় দলের অনুশীলন রোববার শুরু হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা একদিন পিছিয়ে সোমবার থেকে শুরু হয়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আগেই সান মারিনো সফরের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিল। নতুন কোচের অধীনে প্রথম দিনের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয় কিংস অ্যারেনার ট্রেনিং মাঠে। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং দলীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে এই ফিফা প্রীতি ম্যাচ। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এর আগে বাংলাদেশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলেনি। ফলে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি এবং খেলোয়াড়দের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ডুলির পরামর্শে বাফুফে কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এনেছে। ইতোমধ্যে ইতালিয়ান কোচ মার্ক ব্রুনোকে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় এসে জাতীয় দলের ক্যাম্পেও যোগ দিয়েছেন। বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কোচিং স্টাফের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দলীয় প্রস্তুতিকে আরও পেশাদার কাঠামোর মধ্যে আনা।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক সূচিতে এই ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলো দলীয় র্যাংকিং, খেলোয়াড় মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিপক্ষ সান মারিনো বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ের সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা দলগুলোর একটি। সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিং অনুযায়ী দেশটি ২১১তম স্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিও সান মারিনোর জন্য ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। কারণ এর আগে ইউরোপের এই দেশটি কখনো কোনো এশীয় দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি।
সান মারিনো ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর একটি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সীমিত সাফল্যের জন্য পরিচিত। তারপরও ইউরোপীয় পরিবেশে তাদের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়া ও ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় দলের প্রাথমিক দলে দেশের বিভিন্ন ক্লাবের অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন কোচের অধীনে দল নির্বাচন, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বাফুফে আশা করছে, আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ও নতুন কোচিং কাঠামোর মাধ্যমে দল ভবিষ্যতে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছেও এই ম্যাচ বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইউরোপের মাটিতে জাতীয় দলের প্রথম ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ হওয়ায় এটি দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।