খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সমাধানের লক্ষ্যে আগামী কিছুদিনের মধ্যে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন আইনপ্রণেতা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, জার্মানিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সৌদি আরবে আলোচনায় ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং কৌশলগত অংশীদারদের সাথে পরামর্শ না করেই কিয়েভ রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ সৌদি আরব সফর করবেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাককল। তবে রাশিয়া থেকে বৈঠকে কারা অংশগ্রহণ করবে সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ম্যাককল জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের কথা আলোচনা করা হয়েছিল।
বৈঠকের পরিকল্পনা বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হলেও, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর, ট্রাম্প বুধবার পুতিন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক ফোনকল করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা আশঙ্কা করছিলেন, তাদেরকে শান্তি আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
এমন আশঙ্কার মধ্যেই শনিবার ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইউরোপ শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপের পরামর্শ নেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা কীভাবে সফল করা যায়, সেই বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
খনিজ চুক্তি
শনিবারের আগে, রুবিও তার রাশিয়ান প্রতিপক্ষ সের্গেই ল্যাভরভের সাথে আলোচনা করেছেন। পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, জেলেনস্কি শুক্রবার বলেছিলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং তুরস্ক সফর করবেন, তবে কবে যাবেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। তিনি জানান, এই সফরে মার্কিন বা রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার দেখা করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
মস্কো ইউক্রেনের এক পঞ্চমাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বেশ কয়েক মাস ধরে পূর্বদিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। কিয়েভের ছোট সেনাবাহিনী জনবল সংকটের মধ্যে লড়াই করছে এবং পশ্চিম রাশিয়ার একটি অংশ দখল করার চেষ্টা করছে।
রাশিয়া কিয়েভকে যেকোনো শান্তি চুক্তির অধীনে তাদের ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে ছাড়ার শর্ত দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মস্কোর আক্রমণ প্রতিরোধে ন্যাটো সদস্যপদ বা সমমানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ইউক্রেনকে কয়েক বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন করেন, তবে কিয়েভের জন্য মার্কিন তহবিলের নিরাপত্তা প্রয়োজন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেন বর্তমানে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যা ইউক্রেনের বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ মার্কিন বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ৫০% মালিকানা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে, জেলেনস্কি শনিবার জানিয়েছেন, খসড়া চুক্তিতে কিয়েভের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
খবরওয়ালা/জেআর