খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপের আসর শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি রয়েছে। ঠিক এই চূড়ান্ত মুহূর্তে বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবের আনন্দকে ছাপিয়ে দেখা দিয়েছে এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় মেক্সিকোর তিনটি প্রধান বিমান পরিবহন সংস্থা ওই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু দেশের যাত্রীদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গত শুক্রবার বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে যৌথভাবে এই জরুরি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়।
মেক্সিকোর বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থা ‘অ্যারোমেক্সিকো’ তাদের দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব যাত্রী বিমানে ওঠার পূর্ববর্তী ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অথবা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন বা ওই দেশগুলো ভ্রমণ করেছেন, তাদেরকে বিমানে করে মেক্সিকোর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচলকারী অন্য দুটি স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা ‘ভিভা’ এবং ‘ভোলারিস’-ও তাদের নিজ নিজ রুটে একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। বিমান সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ বিমান নিষেধাজ্ঞা আগামী ৬০ দিনের জন্য পুরোপুরি বলবৎ থাকবে।
বর্তমানে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অত্যন্ত ভয়াবহভাবে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই চরম মহামারি ও সংকটের মধ্যেও দেশটির জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে। ক্রীড়াসূচি অনুযায়ী, কঙ্গো দল তাদের প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে খেলতে নামবে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য কঙ্গো দলটি বর্তমানে ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে অবস্থান করে নিবিড় অনুশীলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে কঙ্গো দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় টেক্সাস রাজ্যের হিউস্টন শহরে আবাসন ও থাকার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপটি কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে এবং আগামী ১১ই জুন মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে এই আসরের পর্দা উঠবে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কঙ্গোর বর্তমান মহামারি পরিস্থিতি এবং ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের একটি সুনির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত পরিসংখ্যানগত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে কঙ্গোর বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণের ক্ষেত্র | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন সংখ্যা |
| নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা (১৫ মে থেকে) | ১৭ জন |
| সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা | ২২৩ জন |
| ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা | ১২৫ জন |
| চিকিৎসাধীন সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা | ৯০০ জনেরও বেশি |
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকায় এবারের ইবোলার মারাত্মক প্রকোপের জন্য মূলত ‘বান্দিবুগিও’ নামক একটি বিশেষ ধরণের ইবোলা ভাইরাসকে দায়ী করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য মতে, এই নির্দিষ্ট প্রকৃতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক, টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত চিকিৎসা শাস্ত্রে আবিষ্কৃত হয়নি। এই প্রতিষেধকহীন ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতেই মেক্সিকো সরকার বিশ্ব আসর শুরুর প্রাক্কালে এই নিশ্ছিদ্র বিমান নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।