খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে গুজরাট টাইটান্স। রাজস্থানের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর দুর্দান্ত ব্যাটিং সত্ত্বেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি তার দল। গুজরাট অধিনায়ক শুবমান গিলের ১০৪ রানের অনবদ্য এক শতক এবং সাই সুদর্শনের দায়িত্বশীল অর্ধশতকের ওপর ভর করে লক্ষ্য তাড়া করে জয় সুনিশ্চিত করে গুজরাট টাইটান্স। এই জয়ের মাধ্যমে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেগা ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে গুজরাট।
ম্যাচের শুরুতে কঠিন উইকেটে এবং প্রতিযোগিতার অন্যতম শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ নৈপুণ্য দেখায় রাজস্থান রয়্যালস। পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক ব্যাটিং করা বৈভব সূর্যবংশী এদিনও চওড়া করেন তার ব্যাট। মাত্র ৪৭ বলে তিনি খেলেন ৯৬ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস। তার এই আক্রমণাত্মক ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ৭টি ছক্কার মার।
দলীয় সংগ্রহকে আরও মজবুত করতে অবদান রাখেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা এবং ডোনোভান ফেরেইরা। জাদেজা করেন ৪৫ রান এবং ফেরেইরা খেলেন দ্রুতগতির ৩৮ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস। এই তিন ব্যাটারের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রানের একটি বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় রাজস্থান রয়্যালস।
চলতি মৌসুমে সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। এলিমিনেটর ম্যাচে ৯৭ রান করার পর এই ম্যাচেও তিনি শতকের খুব কাছে (৯৬ রান) গিয়ে আউট হন। সামগ্রিকভাবে এই মৌসুমে তিনি ২৩৭.৩ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করে নিজের সফল অভিযান শেষ করেন।
২১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে গুজরাট টাইটান্সের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার শুবমান গিল ও সাই সুদর্শন। উদ্বোধনী জুটিতে এই দুজন স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৬৭ রান, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। সাই সুদর্শন ৫৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও অধিনায়ক শুবমান গিল নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি খেলেন ১০৪ রানের এক দুর্দান্ত অধিনায়কোচিত ইনিংস।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সম্পন্ন করেন অন্য ব্যাটাররা। ১৮.৪ ওভারে মাত্র ৩টি উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গুজরাট টাইটান্স। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নকআউট বা প্লে-অফ পর্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সফল রান তাড়ার একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে দলটি।
নিচে ম্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসের প্রধান পারফরম্যান্সের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| দলের নাম | মোট রান ও উইকেট | প্রধান ব্যাটারদের অবদান | মূল বোলিং ও পার্টনারশিপের তথ্য |
| রাজস্থান রয়্যালস | ২১৪/৩ (২০ ওভার) |
বৈভব সূর্যবংশী: ৯৬ (৪৭ বল, ৮ চার, ৭ ছক্কা)
রবীন্দ্র জাদেজা: ৪৫
ডোনোভান ফেরেইরা: ৩৮ |
পুরো মৌসুমে সূর্যবংশীর মোট রান ৭৭৬ (স্ট্রাইক রেট: ২৩৭.৩) |
| গুজরাট টাইটান্স | ২১৯/৩ (১৮.৪ ওভার) |
শুবমান গিল: ১০৪ (শতক)
সাই সুদর্শন: ৫৮ |
উদ্বোধনী জুটি: ১৬৭ রান
রেকর্ড: নকআউট পর্বের অন্যতম সফল রান তাড়া |
রাজস্থান রয়্যালসকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে গুজরাট টাইটান্স। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শিরোপা নির্ধারণী চূড়ান্ত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে গুজরাটের ঘরের মাঠ আহমেদাবাদে। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ার কারণে স্বাগতিক দল হিসেবে গুজরাট টাইটান্স মাঠ ও গ্যালারির দিক থেকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা বা ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।