খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের (স্থানীয় নাম বিভাটেক) মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ ও কিশোর নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের আশ্রাফপুর এলাকার কুমারটেক ও মনুরটেকের মাঝামাঝি স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে একটি প্রাইভেটকার যাচ্ছিল। গাড়িটি আশ্রাফপুর এলাকার কুমারটেক ও মনুরটেকের মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত বিভাটেকের (ইজিবাইক) সাথে এটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বিভাটেকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জুনাইদ শেখ (১৩) নামের এক কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, বিভাটেক চালক মো. রুবেল শেখের (১৯) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জুনাইদ শেখের মা মাহফুজা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ও আহতদের পরিচয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ব্যক্তির নাম | বয়স | গ্রাম ও থানা | দুর্ঘটনায় ভূমিকা/অবস্থা | বর্তমান পরিস্থিতি |
| মো. জুনাইদ শেখ | ১৩ বছর | সাতপাড়া, শিবপুর | বিভাটেকের যাত্রী | শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষণা |
| মো. রুবেল শেখ | ১৯ বছর | লাকুশী, শিবপুর | বিভাটেকের চালক | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু |
| মাহফুজা | – | সাতপাড়া, শিবপুর | বিভাটেকের যাত্রী (জুনাইদের মা) | গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।