খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে আনন্দভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া যুবক রিফাত হাসান রক্তিমের (২০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডুবুরি দলের যৌথ প্রচেষ্টায় তার মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাকশীর ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজের তলদেশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। নিহত রিফাত পাবনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিলালপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে এসেছিলেন রিফাত। গতকাল বিকেলে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ থেকে একটি নৌকা ভাড়া করে পদ্মা নদীতে ভ্রমণে বের হন। ভ্রমণকালীন সময়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে ওঠে এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের কবলে পড়ে একপর্যায়ে নৌকায় থাকা ছয়জন যাত্রীই নদীতে পড়ে যান।
নৌকাডুবির ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পাঁচজন যাত্রীকে জীবিতাবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রিফাত হাসান রক্তিম পানির স্রোতে নিখোঁজ হন।
ঘটনার খবর পেয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য রাজশাহী থেকে একটি বিশেষ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে তীব্র স্রোত এবং রাতের অন্ধকারের কারণে প্রথম দিনের অভিযানে তার সন্ধান মেলেনি।
পরদিন শনিবার সকাল থেকে ডুবুরি দল ও পুলিশ পুনরায় যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে। টানা কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর অবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ থেকেই রিফাতের মরদেহ ভেসে ওঠে এবং ডুবুরিরা তা উদ্ধার করেন।
ঘটনাটির মূল বিবরণ এবং উদ্ধার অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্ট |
| নিহত ব্যক্তির নাম | রিফাত হাসান রক্তিম |
| পিতার নাম ও ঠিকানা | জাকির হোসেন, দিলালপুর (৩ নং ওয়ার্ড), পাবনা পৌরসভা |
| দুর্ঘটনার স্থান | পদ্মা নদী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ এলাকা, ঈশ্বরদী, পাবনা |
| দুর্ঘটনার সময় | ২৯ মে (শুক্রবার), বিকেল সাড়ে ৪টা |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | ৩০ মে (শনিবার), দুপুর সাড়ে ১২টা (প্রায় ২০ ঘণ্টা পর) |
| দুর্ঘটনার কারণ | আনন্দভ্রমণের সময় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি এবং নৌকাডুবি |
| নৌকার মোট যাত্রী | ৬ জন (৫ জন জীবিত উদ্ধার, ১ জন মৃত) |
| যৌথ উদ্ধারকারী দল | বাংলাদেশ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দল |
মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সেটিকে ঈশ্বরদী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই নৌ-দুর্ঘটনা ও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডুবুরি দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিখোঁজ যুবকের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি বর্তমানে ঈশ্বরদী থানায় সংরক্ষিত আছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহটি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।