খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি সম্পন্ন হওয়ার পর আজ সোমবার থেকে দেশজুড়ে পুনরায় চালু হয়েছে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত। নির্দিষ্ট সময়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগদানের উদ্দেশ্যে গতকাল রবিবার থেকেই রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও জেলাসমূহ থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে চড়ে ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, রাজধানীতে প্রবেশ করার প্রধান প্রধান সংযোগ সড়ক কিংবা দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোর কোথাও কোনো বড় ধরনের যানজট বা দীর্ঘ যানবাহনের সারি লক্ষ করা যায়নি।
গতকাল রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকামুখী সাধারণ যাত্রীদের মাঝারি ধরনের উপস্থিতি ও ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক যাত্রীবাহী ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে পৌঁছাতে শুরু করে। তবে দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে কিছু সময় বিপর্যয় বা বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুরে আসে। এছাড়া নীলসাগর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো আধা ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় প্রবেশ করে। অন্যদিকে নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা কয়েকটি ট্রেনও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে এসে পৌঁছায় বলে সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সপরিবারে ঢাকায় ফেরা আব্দুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, উৎসব শেষে গ্রামীণ বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে মন না চাইলেও জীবিকা এবং চাকরির খাতিরে তাঁদের নিয়মিত সময়ে ফিরে আসতে হয়। সিলেট থেকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে চড়ে আসা ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসাইন জানান, জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য তিনি ঢাকায় চলে এসেছেন এবং ট্রেনে খুব বেশি উপচে পড়া ভিড় না থাকায় মোটামুটি ঝামেলাহীনভাবেই যাত্রা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
রেলওয়ে দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গতকাল রবিবার বিভিন্ন দূরবর্তী গন্তব্য থেকে মোট ৪৩টি আন্তনগর এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনসহ সর্বমোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করেছে। ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মানুষ ক্রমান্বয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করলেও অনেকেই এই মুহূর্তে সপরিবারে ফিরছেন না। তিনি উত্তরবঙ্গের কিছু ট্রেনের আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন যে, এটি যাতায়াত ব্যবস্থায় তেমন কোনো বড় সমস্যার সৃষ্টি করেনি।
এদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের মতো বিভিন্ন প্রধান প্রবেশপথে ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও যানবাহনের কোনো তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়নি। তবে যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় সাধারণ গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ির চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনো ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষের ফেরার চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দেবনাথ জানান, সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আজ বেলা বাড়ার সাথে সাথে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দূরপাল্লার গাড়ির অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করা, যত্রতত্র স্টপেজে বা মাঝপথে গাড়ি না থামানোসহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গতকাল রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা ট্রেনের সময়সূচি ও বিলম্বের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েকদিন ঢাকামুখী যাত্রীদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের দাপ্তরিক তদারকি চালু রাখা হবে।