খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবকালীন যাতায়াতে দেশের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান দুই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তথা পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে ব্যাপক যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত ২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ১০ দিনে এই দুটি সেতু পারাপারকারী যানবাহন থেকে সর্বমোট ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা টোল আদায় সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সুনির্দিষ্ট রাজস্ব ও প্রশাসনিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, আলোচ্য ১০ দিনে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা। গত ২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে এই মেগা কাঠামো দিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন পারাপার হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের সুশৃঙ্খল ও আধুনিক টোল আদায় ব্যবস্থার কারণে উৎসবকালীন চরম ব্যস্ততার মাঝেও কোনো দীর্ঘ যানজট বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
একইভাবে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও গত ২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে যমুনা সেতু দিয়ে মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি ছোট-বড় যানবাহন পারাপার সম্পন্ন হয়েছে। এসব পারাপারকারী যানবাহন থেকে সর্বমোট ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা টোল রাজস্ব হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সংগৃহীত হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, পদ্মা ও যমুনা সেতুর কার্যকর ও আধুনিক দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার ফলশ্রুতিতে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে থাকা সাধারণ যাত্রীদের জন্য সড়কপথে অত্যন্ত নিরাপদ, মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, দেশের মানুষের উৎসবকালীন যাতায়াত ও ঈদযাত্রাকে নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রধান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও জনসাধারণের ঈদযাত্রায় সার্বক্ষণিক তদারকি ও নিবিড় নজরদারি বজায় রেখেছেন। সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সঠিক তদারকির ফলেই ঈদে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তনকারী সাধারণ মানুষের যাতায়াত অন্যান্য যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।
গত ১০ দিনে (২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত) পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে সংগৃহীত টোল এবং পারাপার হওয়া যানবাহনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| সেতুর সুনির্দিষ্ট নাম | পারাপার হওয়া মোট যানবাহন সংখ্যা | সংগৃহীত মোট টোলের পরিমাণ (টাকা) |
| পদ্মা সেতু | ৩,১৮,৫১৫টি | ৩৬,১১,৯৫,৯০০ টাকা |
| যমুনা সেতু | ৩,৬১,৪৮২টি | ২৭,৬৮,৫৪,৯০০ টাকা |
| সর্বমোট পরিসংখ্যান | ৬,৭৯,৯৯৭টি | ৬৩,৮০,৫০,৮০০ টাকা |
সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের বিশেষ দিনগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে টোল প্লাজাগুলোতে বিশেষ বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল এবং সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল সংগ্রহের গতি সচল রাখা হয়েছিল।