চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনমনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫) এবং তার ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। জানা গেছে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন বিধান মল্লিক এবং তার পেছনে যাত্রী হিসেবে বসেছিলেন তার বাবা দুর্গাপদ মল্লিক।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে মইজ্জ্যারটেকমুখী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই আরোহী ছিটকে সড়কে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আঘাতে প্রাণ হারান দুর্গাপদ মল্লিক।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিধান মল্লিককে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে দুজনের জীবনাবসান ঘটে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
বিষয়
তথ্য
দুর্ঘটনার স্থান
কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের প্রথম সিঁড়ি সংলগ্ন এলাকা
দুর্ঘটনার সময়
মঙ্গলবার, সকাল ৮টা
সংশ্লিষ্ট যানবাহন
পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেল
নিহতের সংখ্যা
২ জন
নিহতদের পরিচয়
দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫), বিধান মল্লিক (৪৭)
পারিবারিক সম্পর্ক
বাবা ও ছেলে
বাড়ি
সিংহরা উত্তরপাড়া, চাতরী ইউনিয়ন, আনোয়ারা
হাসপাতালে নেওয়া হয়
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
তদন্তকারী সংস্থা
কর্ণফুলী থানা পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যানটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর জামান জানান, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত এগিয়ে চলছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যস্ত সড়ক, সেতু সংলগ্ন এলাকা এবং মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, অসতর্ক চালনা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা এবং সুরক্ষা বিধি না মানার কারণে প্রাণহানি ঘটে।
তাদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়কে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্ণফুলীর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।