খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (৩ জুন) ডিএসইতে মোট ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা বিগত ৯ মাসের মধ্যে একক কার্যদিবসে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে এর চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থাৎ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে এসে অবস্থান করছে।
ডিএসইর সাম্প্রতিক লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত কয়েক মাসে বাজার বেশ ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করার খবরের পর ১৫, ১৬ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি—এই টানা তিন কার্যদিবসে ঢাকার পুঁজিবাজারে প্রতিদিন ১ হাজার ৳২০০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছিল। ওই সময় বাজারটিতে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে আসে।
এর পর থেকে গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ডিএসইর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ আর কখনো ১ হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। তবে এর মাঝে গত ৮ এপ্রিল বাজার কিছুটা গতিশীল হয়ে উঠেছিল এবং সেদিন প্রায় ৯৯২ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সবশেষ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল গত ১২ মে, যেদিন বাজারে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়।
পবিত্র ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবস অর্থাৎ সোমবারে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯০০ কোটি টাকার উপরে। এর পরের দিন, মঙ্গলবারে বাজারের গতি আরও বৃদ্ধি পায় এবং সেদিন মোট ১ হাজার ৮০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই ধারাবাহিকতায় বুধবার লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রকৌশল, বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বমোট ৩৯০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের দর পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে ৯৮টি কোম্পানির শেয়ারের দর হ্রাস পেয়েছে। বাকি ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য অপরিবর্তিত বা আগের দরেই লেনদেন শেষ করেছে।
এদিন ক্লোজিং প্রাইস বা সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে ডিএসইতে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছে দেশ গার্মেন্টস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুঁজিবাজারে নির্ধারিত সার্কিট ব্রেকার বা মূল্য পরিবর্তনের সর্বোচ্চ সীমা আরোপ করা থাকার কারণে এই শেয়ারটির দর এদিন এর চেয়ে বেশি বাড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। সমাপনী সময়ে দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার সর্বশেষ ১৪০ টাকা দরে হাতবদল হয়, যার পূর্ববর্তী দিনের সমাপনী মূল্য ছিল ১২৮ টাকা। এই তালিকায় অন্যান্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী কমার্শিয়াল ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় চাপের মুখে এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ইয়াকিন পলিমার, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড।
| সূচক / লেনদেনের বিবরণ | তথ্য ও মূল্য | পরিবর্তন / অবস্থা |
| প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) | ৫,৪৪১.০০ পয়েন্ট | +৩৫.৪৫ পয়েন্ট (উত্থান) |
| ৩ জুনের মোট লেনদেন | ১,২৭৯ কোটি টাকা | ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড |
| বিগত সর্বোচ্চ লেনদেন (৯ সেপ্টেম্বর) | ১, ৪০০ কোটি টাকা | ঐতিহাসিক তুলনা |
| মোট লেনদেনকৃত প্রতিষ্ঠান | ৩৯০টি | শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট |
| দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠান | ২৪৩টি | বাজারের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ |
| দর হ্রাস পাওয়া প্রতিষ্ঠান | ৯৮টি | নিয়ন্ত্রিত সংশোধন |
| অপরিবর্তিত প্রতিষ্ঠান | ৪৯টি | স্থির অবস্থা |
| দেশ গার্মেন্টস লিমিটেড (সর্বোচ্চ বৃদ্ধি) | ১৪০ টাকা (পূর্ব মূল্য: ১২৮ টাকা) | +১০% (সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ) |
সামগ্রিকভাবে, প্রকৌশল, বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্রয়াদেশের ফলেই পুঁজিবাজারে বড় ধরনের এই টার্নওভার বা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের ছুটির পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।