ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার আরও দুই সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার একটি টহল দল উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। উপজেলার আব্দুল আজিজের বাড়ির সামনের পাকা সড়কে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে এক যুবককে আটক করে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে আটক যুবকের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সিদ্দিকুর রহমান (২২)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বরাইল গ্রামের বাসিন্দা এবং আতিকুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা অমিত (২৩) ও লিমন (১৯) নামের দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত
আলামতের ধরন
সংখ্যা
দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক
১টি
কার্তুজ
২ রাউন্ড
নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল
১টি
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও মোটরসাইকেল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও অস্ত্রভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার ফলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।