ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে গাজা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত চারটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের ঘরেই অবস্থান করছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে নিহতের সংখ্যা ছয়জন বলা হলেও উদ্ধারকাজ অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও জ্বালানির ঘাটতি থাকায় আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, ধারাবাহিক হামলা এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকার কথা থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল তিন হাজারেরও বেশি বার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দপ্তরের দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনার ফলে অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সংঘাত অব্যাহত থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
তথ্য
সর্বশেষ হামলার স্থান
গাজা নগরী
হামলার ধরন
বিমান হামলা
লক্ষ্যবস্তু
৪টি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট
নিহত
অন্তত ৯ জন
নিহত শিশু
৪ জন
আহত
বেশ কয়েকজন
যুদ্ধবিরতি শুরুর সময়
গত বছরের ১ অক্টোবর
অভিযোগকৃত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
৩,০০০ বারের বেশি
লঙ্ঘনের ঘটনায় নিহত
অন্তত ৯০০ জন
লঙ্ঘনের ঘটনায় আহত
২,০০০-এর বেশি
এদিকে গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।