ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে চারজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামুড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাধবপুর এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বৈশামুড়া এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের মুন্সি আরশ আলী, শিশু আলিফ, সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার মৌসুমী দাস এবং নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের তনয় কুমার মজুমদার। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
হতাহতদের প্রাথমিক তথ্য
বিষয়
তথ্য
দুর্ঘটনার স্থান
বৈশামুড়া, শাহবাজপুর, সরাইল
সড়ক
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
দুর্ঘটনার সময়
সোমবার, দুপুর সাড়ে ১২টা
যানবাহন
দিগন্ত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস
নিহত
৪ জন
আহত
প্রায় ৩০ জন
গুরুতর আহত
একাধিক যাত্রী
উদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী
সড়ক দুর্ঘটনাটি আবারও দেশের মহাসড়কগুলোতে নিরাপদ যাতায়াতের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের কারিগরি ত্রুটি কিংবা সড়কের পরিস্থিতি—এসব কারণ অনেক সময় এমন দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের দেওয়ান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।