খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
চলতি বছরের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি রয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের এই চূড়ান্ত ক্ষণগণনার মধ্যে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের শারীরিক ফিটনেস ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। ডান পায়ের কাফ ইনজুরি বা পেশির চোট থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে এই ফুটবলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) বিশেষ প্রযুক্তি অনুসরণে তৈরি একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করছেন। এই প্রযুক্তির ব্যবহার ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আশাকে ফুটবল ভক্ত ও বোদ্ধাদের মাঝে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
ব্রাজিলিয়ান শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো এসপোর্তে’-এর প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে নেইমারের এই আধুনিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারের ডান পায়ের কাফ ইনজুরির দ্রুত নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল’ (মহাকর্ষহীন অবহেলাকারী দৌড়ানোর যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে। গত শনিবার (৬ জুন) ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার স্বশরীরে এই বিশেষ ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রটির সাহায্যে নিজের পুনর্বাসন অনুশীলন সম্পন্ন করেছেন।
নেইমারের চোট নিরাময়ে ব্যবহৃত এই অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিলটির কার্যপ্রণালী অত্যন্ত আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই বিশেষ যন্ত্রটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটিতে অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়ের শরীরের ওজনের একটি বড় অংশ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। মহাকর্ষ বলের প্রভাব সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়ার কারণে ইনজুরিগ্রস্ত বা চোটাক্রান্ত স্থানে শরীরের স্বাভাবিক ওজনজনিত চাপ পড়ে না। ফলে একজন চোটপ্রাপ্ত খেলোয়াড় তার স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম ঝুঁকিতে এবং ব্যথামুক্ত উপায়ে দৌড়াতে ও শারীরিক কসরত করতে পারেন।
চিকিৎসা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ও নামী-দামী ক্রীড়াবিদগণ জটিল চোট থেকে সেরে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নাসার এই বিশেষ প্রযুক্তিটি নিয়মিত ব্যবহার করে আসছেন। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর, ইতিমধ্যে ব্রাজিলের স্থানীয় কয়েকটি শীর্ষ ফুটবল ক্লাবও তাদের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার বা চিকিৎসা সুবিধার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিলটি যুক্ত করেছে।
নেইমারের শারীরিক অবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি এবং চোটের সর্বশেষ অগ্রগতি নিখুঁতভাবে মূল্যায়নের জন্য আজ সোমবার (৮ জুন) একটি নতুন ইমেজিং পরীক্ষা বা স্ক্যান করা হবে। ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দিন ধার্যকৃত ইমেজিং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নেইমারের পরবর্তী পুনর্বাসন ও চিকিৎসার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
যদি সোমবারের মেডিকেল রিপোর্টের ফলাফলে চিকিৎসকেরা সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখতে পান এবং তাকে সবুজ সংকেত বা খেলার অনুমতি প্রদান করেন, তবেই নেইমার দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে পুরোদমে শারীরিক অনুশীলনে অংশ নিতে পারবেন। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর মাঠের অনুশীলনে তার উন্নতির গতির ওপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে তাকে বল নিয়ে মূল অনুশীলনে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে মেডিকেল টিম সূত্রে জানা গেছে।
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, নেইমারের শারীরিক অবস্থা ও চোটের বর্তমান উন্নতি নিয়ে দলের টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফরা যথেষ্ট আশাবাদী। যদিও আসন্ন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেইমারের শুরুর একাদশে থাকা কিংবা মাঠে নামার বিষয়টি এখনও শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবুও সেলেসাও বা ব্রাজিল শিবিরের প্রবল বিশ্বাস যে, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য এই তারকা ফুটবলার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন।
বিশ্বকাপের সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নেইমারের ম্যাচ ফিটনেস এবং শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে, তা জানতে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে আছে ব্রাজিল দলের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর। নেইমারের সুস্থতার ওপরই মূলত নির্ভর করছে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের রণকৌশল।