খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
ক্রিকেট মানচিত্রে দীর্ঘ সময় পর চিরচেনা দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ বিশিষ্ট ওয়ানডে সিরিজের প্রথম খেলায় আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই তরুণ ওপেনার সাইফ হাসানের উইকেট হারিয়ে দল সাময়িক ধাক্কা খেলেও, পরবর্তীতে দুর্দান্ত এক জুটির মাধ্যমে উড়ান্ত সূচনা করেছে টাইগাররা। ইনিংসের শুরুর দিকে তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত সাজঘরে ফিরতে পারতেন, তবে ফিল্ডারের ক্যাচ মিসের সুবাদে তিনি নতুন জীবন পান। এরপর তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬২ রান।
দুই দেশের ক্রিকেটীয় ইতিহাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে পরস্পরের মুখোমুখি হলো। এই ম্যাচের পূর্বে দুই দল একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বমোট ২২ বার একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশ দল কেবল একটি মাত্র ম্যাচে জয়লাভে সক্ষম হয়। ফলে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের জন্য এই সিরিজটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এবং মর্যাদাপূর্ণ। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক দল কন্ডিশন বিবেচনায় তাদের চূড়ান্ত একাদশ সাজিয়েছে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে। বাংলাদেশের একাদশে রাখা হয়েছে তিনজন পেসার, তিনজন স্পিনার, পাঁচজন নিয়মিত ব্যাটার এবং দুইজন অলরাউন্ডার।
আজ মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসের সূচনা করতে নামেন তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে অস্ট্রেলীয় বোলার নাথান এলিসের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে ছিল, যা থেকে চমৎকার একটি চার মেরে সাইফ হাসান নিজের ও দলের রানের খাতা খোলেন। তবে ঠিক তার পরের বলটি কিছুটা ভেতরের দিকে চলে আসে এবং সাইফ সেটি রক্ষণাত্মকভাবে খেলার চেষ্টা করলেও টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেননি। বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেনের হাতে জমা হয়। আউট হওয়ার আগে সাইফ হাসান ৫টি বল খেলে ১টি চারের সাহায্যে ৫ রান সংগ্রহ করেন।
প্রথম ১০ ওভার বা পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ব্যাটারের নাম | বর্তমান অবস্থা | বলের সংখ্যা | চারের সংখ্যা | সংগৃহীত রান |
| সাইফ হাসান | আউট (ক্যাচ: মার্নাস লাবুশেন, বোলার: নাথান এলিস) | ৫ | ১ | ৫ |
| তামিম ইকবাল | অপরাজিত | ২৫ | তথ্য নেই | ৩১ |
| নাজমুল হোসেন শান্ত | অপরাজিত | ৩০ | তথ্য নেই | ২৫ |
| সর্বমোট দলীয় সংগ্রহ | ১ উইকেটে (১০ ওভার শেষে) | ৬০ | ** can_not_be_blank ** | ৬২ |
সাইফ হাসানের বিদায়ের পর তিন নম্বর অবস্থানে ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও বোলার নাথান এলিসের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই চার মেরে নিজের ইনিংসের সূচনা করেন। তবে ঠিক তার পরের বলেই শান্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। সেখানে প্রথম উইকেটের ক্যাচ নেওয়া মার্নাস লাবুশেন এবার বলটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন এবং বল হাত থেকে ফসকে যায়। এই জীবন পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শান্ত ও তামিম ইকবাল পিচে থিতু হয়ে বসেন এবং অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন।
বিশেষ করে অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে রান তুলতে শুরু করেন। প্রথম ১০ ওভারের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত তামিম ২৫টি বল খেলে ৩১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত ৩০টি বল মোকাবেলা করে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন। এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।