অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামীপন্থী ৬১ জন আইনজীবী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁদের পেশাগত কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না এবং আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে তাঁরা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে কারামুক্ত আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকা আইনজীবীদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে পেশাজীবীদের হয়রানি করা বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা “ইউনূসের বিচার চাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, আইনজীবীদের অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ। উপস্থিত আইনজীবীরা দাবি করেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতাদর্শের কারণে কাউকে পেশাগতভাবে কোণঠাসা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট লিটন মিয়া, অ্যাডভোকেট মো. তৌহিদ এবং অ্যাডভোকেট শামীম আল সোহাগ সাইফুলসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের তথ্য ও দাবি সংক্ষেপ
বিষয়
বিবরণ
কর্মসূচির ধরন
মানববন্ধন
স্থান
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ
সময়
মঙ্গলবার, ৯ জুন, দুপুর সাড়ে ১২টা
অংশগ্রহণকারী
গ্রেপ্তার ও কারামুক্ত ৬১ জন আইনজীবী
মূল দাবি
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার
অভিযোগ
পেশাগত কার্যক্রমে বাধা, নির্বাচন ও মামলা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা
উল্লেখযোগ্য স্লোগান
“ইউনূসের বিচার চাই”
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।