লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে লিয়াকত আলী লাদেন নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সারপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাদেন সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারি এলাকার আশরাফুল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জুয়েল ও তার ছেলে রকি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে জুয়েলের ছোট ছেলের সঙ্গে লাদেনের কথাকাটাকাটি ও গালিগালাজকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সহিংসতার মাধ্যমে ঘটনার চূড়ান্ত রূপ নেয়।
নিহতের স্বজন জাহিদুল ইসলাম জাকির জানান, রাত আটটার দিকে লাদেন সারপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার গফফারের দোকানের পাশে গেলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা জুয়েল ও তার ছেলে রকি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। লাদেনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে দ্রুত লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইমরুল হাসান।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ হত্যাকাণ্ডকে নির্মম ও অমানবিক বলে উল্লেখ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নিহতের চাচা ফজলার রহমান ফরিদসহ স্থানীয় অনেকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
সময়
ঘটনা
পূর্ববর্তী কয়েক দিন
দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি
সোমবার বিকেল
স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত
রাত আনুমানিক ৮টা
লাদেন দোকানের পাশে গেলে হামলার শিকার হন
রাত ৮টা ১০ মিনিট
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন
রাত আনুমানিক ৯টা
চিকিৎসক লাদেনকে মৃত ঘোষণা করেন
এলাকাবাসীর ধারণা, পূর্বের বিরোধ সঠিকভাবে সমাধান না হওয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।