খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি বৃদ্ধি, সাইবার ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বীমা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া (আইসিএ) এবং নিউজিল্যান্ডের ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব নিউজিল্যান্ড (আইসিএনজেড) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ‘রেজিলিয়েন্ট ইন্স্যুরেন্স মার্কেটস ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দুই দেশের বীমা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আইসিএ ও আইসিএনজেড জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বর্তমানে ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে চরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হুমকি, ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ থেকে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ। এসব ঝুঁকির প্রভাব বীমা শিল্প, অর্থনীতি এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ক্রমেই বাড়ছে।
দুই সংস্থার মতে, মাথাপিছু হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন ঘটনার কারণে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বীমা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
নতুন উদ্যোগের আওতায় আইসিএ এবং আইসিএনজেড জন ও বেসরকারি খাতের যৌথ ঝুঁকি-হ্রাস কার্যক্রম সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করবে। পাশাপাশি দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নীতিগত সমন্বয় ও যৌথ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি। দুই সংস্থা জানিয়েছে, যেখানে সম্ভব সেখানে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয় জোরদার করা হবে, যাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহকরা আরও কার্যকর ও উন্নত সেবা পান। একই সঙ্গে বীমা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘রেজিলিয়েন্ট ইন্স্যুরেন্স মার্কেটস ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে দুই সংস্থার মধ্যে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ, নীতিগত সমন্বয় এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে উদীয়মান ঝুঁকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বীমা খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ফাফোয়ি বলেন, নিউজিল্যান্ড এখনও ক্রমবর্ধমান দুর্যোগ ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এ পরিস্থিতিতে সহনশীল অবকাঠামো ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিনিয়োগের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার আগে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলার ভবিষ্যতে ৫ থেকে ৮ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করতে পারে। তাঁর মতে, ঝুঁকি কমানোর জন্য আগাম বিনিয়োগ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করে না, বরং ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বীমা খাতের এই যৌথ উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বাজারের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির একটি সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের বীমা শিল্পের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও টেকসই বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।