খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা এলাকার পানহাটিতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পানহাটির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পূর্বেও একাধিকবার একই ইস্যুতে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।
সকালের ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের ফলে আশপাশের দোকানদার ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকে দিকবিদিক ছুটে পালাতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে থাকা পানহাটির কয়েকটি টিনের ছাউনি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দুটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পলাশবাড়ী–ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এ দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ছোটশিমুলতলা পানহাটি, পলাশবাড়ী পৌর এলাকা |
| সময় | বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা |
| জড়িত পক্ষ | বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা |
| প্রধান ঘটনা | ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ |
| ক্ষয়ক্ষতি | দোকান ভাঙচুর, গাছ কাটা, আতঙ্ক সৃষ্টি |
| পূর্বের ঘটনা | ২০ মে একই স্থানে সংঘর্ষে আহতের মৃত্যু |
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানহাটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০ মে একই স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উভয় পক্ষের কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক আধিপত্য ও স্থানীয় ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারবার এমন সংঘর্ষ ঘটছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।