চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় মহাসড়কে বিশেষ অভিযানে একটি পিকআপ গাড়ির পেছনের বাম্পারের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশি চালানোর সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি সাদা রঙের পিকআপকে সন্দেহজনক মনে করে থামানোর সংকেত দেয়। সংকেত পেয়ে গাড়িটি থামানো হলে তল্লাশি শুরু করা হয়।
তল্লাশির সময় গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেন যে, গাড়িটির পেছনের বাম্পারের ভেতরে মাদক লুকানো আছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাম্পার খুলে দেখা যায়, বিশেষভাবে মোড়ানো সাদা পলিথিনের পাঁচটি প্যাকেট রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেট খুলে টিস্যু পেপারে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলেই দুইজনকে আটক করা হয় এবং পিকআপ গাড়িটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় নিম্নরূপ—
নাম
বয়স
ঠিকানা
পিতার নাম
মো. মনির হোসেন
৩৯
গুণবতী ইউনিয়ন, খাটরা গ্রাম, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
আলী হোসেন
রিয়াদুল ইসলাম
৩০
দক্ষিণ কলাতলী, ঝিলংজা, কক্সবাজার পৌরসভা
ছালেহ আহামদ
লোহাগাড়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে মাদক পাচারের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মাদক বহনের জন্য গাড়ির যান্ত্রিক অংশের ভেতরে গোপন কুঠুরি তৈরি করা হয়েছিল, যা সাধারণ তল্লাশিতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম ছিল।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ১০ হাজার পিস। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেফতার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন জানায়, সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চললেও নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কে সন্দেহজনক যানবাহন তল্লাশি এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মহাসড়কে মাদক পরিবহন রোধে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা জরুরি। এতে করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
এই ঘটনার পর এলাকায় মাদক চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।