খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক দীপ্রা তাবাসসুমের দুঃখজনক মৃত্যুর খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, সন্তান জন্মদানের পর নারীদের শরীরে যে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, তার ফলে দীপ্রা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বা সন্তান জন্মদান-পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই মানসিক সংকটের মধ্যেই তিনি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দীপ্রা তাবাসসুমের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণ করতেন এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করতেন না। উল্লেখ্য, দীপ্রার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাজীবী। তাঁর স্বামী একজন চিকিৎসক, শ্বশুরও চিকিৎসক এবং শাশুড়ি একজন প্যাথলজিস্ট। উচ্চশিক্ষিত এবং এলিট শ্রেণির পরিবার হওয়া সত্ত্বেও দীপ্রা তাবাসসুম সেখানে কোনো প্রকার মানবিক মর্যাদা পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দীপ্রার নিজের পরিবারও সংকটের সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেনি। তাঁর মা স্কিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত এবং বাবা ও ভাইয়ের পক্ষ থেকেও তিনি কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি।
ঘটনার পর দীপ্রা তাবাসসুমের সমস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) করা হয়েছে এবং তাঁর দেওয়া বেশ কিছু পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, এর পেছনে আত্মহত্যার প্ররোচনা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমে যেন এই সংবাদটি প্রচারিত না হয়, সে লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতার কথাও জানা গেছে।
দীপ্রা তাবাসসুমের স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় এবং তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা অভিজ্ঞ মহলের মতে, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা, উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্ত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মতো বিষয়গুলো সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। অনেক উচ্চশিক্ষিত পরিবারেও নারীরা চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হন। এই ঘটনায় ভিক্টিমের পরিবার যদি আইনিভাবে আপোস করে ফেলে, তবে বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে এই ধরনের অপরাধী পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার বিষয়ে জনমত গড়ে উঠছে।