খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী গ্রাম সংলগ্ন নদী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো—বাখের আলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের কন্যা কারিমা (৮) এবং একই ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের কাজল আহাদের কন্যা ইসরাত (৭)। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের যৌথ সহায়তায় নদী থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ শ্রী কাজল চন্দ্র শীল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কারিমা ও ইসরাত এলাকার আরও কয়েকটি শিশুর সঙ্গে বাখের আলী গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে কারিমা ও ইসরাত নদীর তীব্র স্রোতে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করলে নদীর পাড়ে থাকা স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পান। গ্রামীণ বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে নেমে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ দুই শিশুর কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং নদীতে পেশাদার উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় দুপুরের পর বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রথম শিশু কারিমার (৮) মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় শিশু ইসরাতকে (৭) খোঁজার জন্য নদীতে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়। অবশেষে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে নদী থেকে ইসরাতের মরদেহও উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসেইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাখের আলী গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় যথাসময়ে দুই শিশুর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের পর মরদেহ দুটি তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রীষ্মকালে প্রত্যন্ত ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের শিশুদের নদী বা জলাশয়ে গোসল করার ক্ষেত্রে পরিবারের অসচেতনতা এবং সাঁতার না জানাকে এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের তাদের ছোট ছেলেমেয়েদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার এবং একা বা দলগতভাবে বড় নদীতে গোসলে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।