খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে ফেরার পথে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন তথা কোয়াব। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং পারভেজ হোসেন ইমনসহ অন্যান্য সতীর্থরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
গত বারো জুন রাতে সাভারে অনুষ্ঠিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষ করে নাঈম হাসান চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে লালখান বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা তাঁর পথরোধ করে। বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা কোয়াব তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, শুরু থেকেই কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা নাঈমের প্রতি অত্যন্ত বৈরী ও আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। জাতীয় দলের এই অফ-স্পিনার কথা বলার চেষ্টা করলে একজন পুলিশ সদস্য তাঁর গলা টিপে ধরেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ পুলিশকে বারবার জানান যে তিনি জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। তবে সেই পরিচয়কে কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে পুলিশ সদস্যরা পাইপ দিয়ে নাঈম হাসানকে পেটাতে থাকেন। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে নাঈম হাসান নিজের ফোন থেকে পরিচিতদের কাছে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ শুরু করলে পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে সরে যান। কোয়াবের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে কথা বলে সকল খেলোয়াড়দের তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কোয়াব চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই নির্যাতনে জড়িত প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই নিষ্ঠুর ঘটনার পর জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় লিখেছেন যে, জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় দেশের গৌরব ও সম্পদ। তাঁর সঙ্গে ডিবি পরিচয়ে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর বড় আঘাত। তিনি জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
জাতীয় দলের তারকা ব্যাটার লিটন দাস সতীর্থের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন যে, নাঈম একজন অসাধারণ মানুষ এবং তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দেশের কোনো সাধারণ নাগরিকই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার তো নয়ই, যিনি গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার আশা করেন।
অন্যতম অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অবমাননাকর। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিক্রিয়া নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনার প্রধান বিবরণসমূহ | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্ট |
| নির্যাতনের শিকার ক্রিকেটার | নাঈম হাসান (জাতীয় দলের অফ-স্পিনার) |
| ঘটনার স্থান ও সময় | লালখান বাজার, চট্টগ্রাম; ১২ জুন রাতে |
| আক্রমণকারীদের পরিচয় | ডিবি বা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য |
| আটক করে নিয়ে যাওয়া স্থান | খুলশী থানা, চট্টগ্রাম |
| ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দল | বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) |
| কোয়াব সভাপতির নাম | মোহাম্মদ মিঠুন |
| প্রতিবাদকারী সতীর্থ খেলোয়াড়বৃন্দ | লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন |
| ঘটনার পূর্বে নাঈমের শেষ খেলা | ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ (সাভার) |
| প্রধান দাবি ও আহ্বান | ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি |