খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেতে হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। খেলার মাত্র ২১তম মিনিটে মরক্কোর আক্রমণাত্মক মধ্যভাগের ফুটবলার ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। তবে এর ঠিক ১১ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৩২তম মিনিটে দলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে সমতায় ফেরে তারা। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ইতিহাসের প্রথম বিদেশি প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের এমন হতাশাজনক শুরুর পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ ও রণকৌশলগত বিভিন্ন দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
ম্যাচ পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ইতালির এই কিংবদন্তি কোচ দলের দুর্বলতার দিকগুলো অত্যন্ত মার্জিত ও পরিষ্কার ভাষায় তুলে ধরেন। কার্লো আনচেলত্তি জানান, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে এক ধরনের তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কাজ করছিল। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়রা। তারা বারবার পা থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং মরক্কোর ফুটবলারদের সাথে মুখোমুখি বল দখলের লড়াইগুলোতেও অধিকাংশ সময় পরাস্ত হয়েছেন।
ইতালীয় এই কোচের মতে, পূর্ববর্তী দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দল যে কৌশলগুলো সফলভাবে প্রয়োগ করেছিল, তা মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও দুর্দান্ত রণকৌশলের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র কার্যকর হয়নি। প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের খেলায় কিছুটা উন্নতি ও ভারসাম্য এলেও তা কাঙ্ক্ষিত জয়ের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। তবে নিজের পরিকল্পনার ত্রুটি নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করলেও সামগ্রিক ফলাফলে সম্পূর্ণ হতাশ নন আনচেলত্তি। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যেকোনো ধরনের নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং প্রথম ম্যাচেই পুরো টুর্নামেন্টের ভাগ্য বা ট্রফি নির্ধারণ হয়ে যায় না।
ম্যাচের প্রধান ঘটনা এবং প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যসমূহ নিচের টেবিলের মাধ্যমে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যালোচনার ক্ষেত্র | সংশ্লিষ্ট নিখুঁত তথ্য ও কোচের মন্তব্য |
| খেলার চূড়ান্ত ফলাফল | ব্রাজিল ১ – ১ মরক্কো (ড্র) |
| মরক্কোর পক্ষে গোলদাতা | ইসমাইল সাইবারি (ম্যাচের ২১তম মিনিটে) |
| ব্রাজিলের পক্ষে গোলদাতা | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ম্যাচের ৩২তম মিনিটে) |
| ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ | কার্লো আনচেলত্তি (ইতালি) |
| চিহ্নিত মূল দুর্বলতাসমূহ | মানসিক উদ্বেগ, বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং মাঠের ভারসাম্যহীনতা |
| ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স | মাঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিলেন এবং তাঁর বিশ্বকাপ চমৎকার কাটবে |
| পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ | হাইতি (আগামী ২০ জুন, সকালে) |
| দলের প্রধান লক্ষ্য | ভুলত্রুটি দূর করা, ধারাবাহিক উন্নতি এবং গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করা |
ব্রাজিল দলের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ জুন সকালে, যেখানে ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে হাইতি। সেই ম্যাচের আগে দলের শুরুর একাদশ, মাঠের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ঘাটতিগুলো দূর করতে নিবিড়ভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন এই ইতালীয় কোচ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, পরবর্তী ম্যাচের আগে তাঁর মূল কাজ হবে দলের রক্ষণভাগ ও মধ্যভাগের মধ্যে একটি সুদৃঢ় ভারসাম্য তৈরি করা এবং সামনের সারির আক্রমণভাগকে প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও ধারালো করে তোলা।
দলের শক্তির গভীরতা নিয়ে নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে আনচেলত্তি বলেন যে, শুধু শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের ওপর পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করে না, বরং পরবর্তীতে বদলি হিসেবে মাঠের নামা খেলোয়াড়দেরও দলের জয়ের জন্য সমান অবদান রাখার এবং সমস্যা কাটিয়ে ওঠার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। দলের একমাত্র গোলদাতা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করে কোচ উল্লেখ করেন যে, এই ফরোয়ার্ডের মধ্যে বিশ্বমানের সমস্ত গুণাবলি বিদ্যমান এবং চলমান বিশ্বকাপে তিনি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আত্মবিশ্বাস না হারিয়ে সময়ের সাথে সাথে নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়াই এখন ব্রাজিলের মূল লক্ষ্য।