সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলার ভিত্তিতে এই গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে, যা তদন্তের আওতায় আসে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে, যার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাকে দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থার কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
নিচে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
সময়কাল
ঘটনা
২০২০ সালের এপ্রিল
বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর
আইজিপি পদ থেকে অবসর/দায়িত্ব শেষ
পরবর্তী সময়
বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত শুরু
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা দায়ের
অর্থনৈতিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা
আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি
ইন্টারপোলের সহায়তা গ্রহণ
২০২৬ সালের জুন
দুবাইয়ে গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন
সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে নিজ দেশে প্রত্যর্পণ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যেখানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বিচারিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ঘটনায় দেশের আইন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়ার ওপর এবং মামলার পরবর্তী ধাপ কীভাবে এগোয় তার দিকে।