মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে তিনটি অর্ধশতকের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা স্বাগতিকরা এবার হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যেই মাঠে নামে। তবে ব্যাটিংয়ে ওঠানামার মধ্যেও লড়াকু সংগ্রহ গড়ে তোলে টাইগাররা।
রবিবার (১৪ জুন) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকার মাত্র ২ রান করে দ্রুত আউট হয়ে যান। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা স্থিতি আনার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি।
তানজিদ ১৯ রান এবং শান্ত ২৪ রানে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ সামাল দেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনের জুটিতে ইনিংস ঘুরে দাঁড়ায়। লিটন ৪৮ রানে ব্যাট করতে থাকলেও পায়ের চোটের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। অন্যদিকে তাওহিদ হৃদয় দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যদিও সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে তিনি আউট হন।
মধ্যপর্বে ধীরগতির হলেও পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আগ্রাসী ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে গতি আনেন। তিনি ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন এবং দলের সংগ্রহকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। শেষ দিকে লিটন দাস আবার ব্যাটিংয়ে ফিরে এসে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে ম্যাট রেনশ এবং জাভিয়ের বার্টলেট উভয়েই দুটি করে উইকেট নেন। বেন ডোয়ারসুইশ একটি উইকেট লাভ করেন।
বাংলাদেশের ইনিংসটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নিচে বাংলাদেশের ইনিংসের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো—
| ব্যাটসম্যান |
রান |
মন্তব্য |
| সৌম্য সরকার |
২ |
দ্রুত আউট |
| তানজিদ হাসান তামিম |
১৯ |
শুরু ভালো হলেও থামেন |
| নাজমুল হোসেন শান্ত |
২৪ |
সেট হয়েও বড় ইনিংস নয় |
| লিটন দাস |
৫৮* |
চোটের পর ফিরে এসে ফিফটি |
| তাওহিদ হৃদয় |
৮৩ |
ইনিংসের সর্বোচ্চ রান |
| মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত |
৫৬* |
আগ্রাসী ফিনিশিং ইনিংস |
ম্যাচের এই অবস্থায় সিরিজের শেষ ওয়ানডে জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২৭৫ রান। বাংলাদেশের বোলাররা এখন নজর রাখবে সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য নিশ্চিত করার দিকে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে লড়াইয়ে ফিরে আসা।