বিশ্ব এখন ছন্দে ছুটছে, প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩০ বিটের গতিতে—আর সেই তীব্র সঙ্গীতময় সময়ের মাঝেই এক অসাধারণ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীত প্রযোজক সানজয় দেব। মাসের পর মাস ধরে চলা প্রস্তুতি, প্রত্যাশা ও উত্তেজনার পর অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।
টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের এক বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনে তিনি অংশ নেন। সেখানে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিমের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন সানজয়। তাঁদের পরিবেশনায় স্থান পায় বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত সংকলনের একটি উল্লেখযোগ্য গান, যা মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী দর্শকদের নজর কাড়ে।
কিন্তু ঝলমলে আতশবাজি ও বিশাল আয়োজনের বাইরে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে ওঠে সানজয়ের পোশাক। গাঢ় মেরুন রঙের জ্যাকেটে তিনি তুলে ধরেন বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীকগুলো—রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল এবং লাল সূর্যের নকশা। প্রতিবার যখন তিনি নিজের হাতের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, তা কেবল ফ্যাশন ছিল না; ছিল নিজের শিকড়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।
সানজয় বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে এখনও পুরোটা বুঝে উঠতে সময় লাগছে। আমরা এই মুহূর্তের জন্য অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি, পোশাক থেকে শুরু করে অনুশীলন—সবকিছু। হঠাৎ করেই নিজেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে পেলাম, তারপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা শেষ হয়ে গেল।”
তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে তার অনুভূতি ছিল গভীর আবেগে ভরা। পরিবারের কথা বারবার মনে পড়ছিল তার। বিশেষ করে বাবা-মা, দাদু-দাদির স্মৃতি এবং প্রয়াত দাদুর কথা তাকে মানসিকভাবে আরও সংযুক্ত করে তোলে।
শৈশব থেকেই সংগীতপ্রেমী পরিবারে বড় হওয়া সানজয় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। কঠিন প্রতিযোগিতামূলক বিনোদন জগতে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।
তার ক্যারিয়ারে এর আগে শীর্ষ চার্টে জায়গা পাওয়া গান এবং বিশ্বের বিভিন্ন তারকার সঙ্গে সহযোগিতার অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশ্বকাপ মঞ্চ ছিল এক নতুন উচ্চতা। তবে সানজয়ের মতে, এটি কোনো শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, “এটা আমার যাত্রার শেষ নয়, বরং শুরু মাত্র। আমি চাই এমন সংগীত তৈরি করতে, যা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারে।”
বর্তমানে তিনি নতুন সংগীত তৈরি এবং বিশ্বব্যাপী ট্যুরের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। বিশ্বকাপে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
প্রধান তথ্যসংক্ষেপ
বিষয়
বিবরণ
অনুষ্ঠান
ফিফা বিশ্বকাপ সাংস্কৃতিক মঞ্চ
স্থান
বিএমও ফিল্ড, টরন্টো
শিল্পী
সানজয় দেব, নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম
পরিবেশিত গান
সিআইআর সিআইআর
উল্লেখযোগ্য বিষয়
বাংলাদেশি প্রতীকসমৃদ্ধ পোশাক
বর্তমান পরিকল্পনা
নতুন গান ও বিশ্বভ্রমণ ট্যুর
বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতা সানজয়ের জন্য কেবল একটি পারফরম্যান্স ছিল না; বরং এটি ছিল নিজের পরিচয়, শিকড় এবং সৃষ্টিশীলতার এক শক্তিশালী মিলনবিন্দু।