গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চত্বরে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে কালির দাগ লাগানো এবং অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি আয়োজন করে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানানো হয় বিক্ষোভ থেকে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরের কিছু সময় আগে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাতইল হর্টিকালচার সেন্টার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল হঠাৎ করে মহাসড়কের ওই অংশে জড়ো হয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় তারা মহাসড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে আগুন জ্বালিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যার ফলে দুই পাশেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যার মধ্যে ছিল ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যভিত্তিক স্লোগান। তারা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে কালির দাগ লাগানোর ঘটনাকে তীব্রভাবে নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, এই কর্মসূচির নেতৃত্ব কে দিয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ঘটনার কিছু সময় পর কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন সরদার তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েক দিন আগে গত ৯ জুন রাতে কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা কালির দাগ লাগায়। পরদিন কিছু নেতাকর্মী ওই ম্যুরাল পরিষ্কার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| স্থান |
কাশিয়ানী উপজেলা, গোপালগঞ্জ |
| সময় |
সোমবার দুপুরের কিছু আগে |
| সড়ক |
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক (রাতইল হর্টিকালচার সেন্টার এলাকা) |
| অংশগ্রহণকারী |
প্রায় ৪০–৫০ জন |
| দাবি |
ম্যুরালে অবমাননার প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক দাবি |
| প্রভাব |
মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত, যানজট সৃষ্টি |
| ঘটনা |
সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, অস্থায়ী আগুন জ্বালানো |
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও কাউকে আর সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনার ফলে মহাসড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে।