খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রাজধানীর রমনা থানাধীন সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ওই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর রমনা এলাকার সিদ্ধেশ্বরীর একটি আবাসিক এলাকায় সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে একা পেয়ে ওই কিশোর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন এবং কান্নাকাটির কারণে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করলে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরাধমূলক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার এজাহারে মূল অভিযুক্ত কিশোরের পাশাপাশি তার আপন মামাকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ওই কিশোর শিশুটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করার পর বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরের মামা আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে গালাগাল করেন এবং হুমকি প্রদান করেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতেই ভুক্তভোগীর পিতা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
এই স্পর্শকাতর অপরাধের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সোমবারই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি অর্থাৎ গ্রেপ্তারকৃত কিশোরের মামা পলাতক রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কোনো দিক রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা সমৃদ্ধ সিদ্ধেশ্বরীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থানে এমন একটি দুঃখজনক অপরাধের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব যেন এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রমনা থানা পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও দেশের প্রচলিত কিশোর আইনের আওতাভুক্ত সকল আইনি বিধিমালা অনুসরণ করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। ঘটনার পর থেকে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘটনার শিকার পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও মানসিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।