খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক নানামুখী চাপ, কঠোর কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার পাহাড় ডিঙিয়ে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফুটবল অভিযান শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। প্রথম দিকে দলটির জন্য নিয়ম করা হয়েছিল যে, তারা সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে খেলা শেষ করে সেই সন্ধ্যায়ই ভেন্যু ত্যাগ করবে। পরবর্তীতে এই কঠোর নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনে ম্যাচের আগের দিন মেক্সিকো থেকে সেখানে গিয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। এমন এক চরম মানসিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে তারা নিউজিল্যান্ডের সাথে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচটি শেষ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিটি দল এবং খেলোয়াড়দের জন্য যে উন্মাদনা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, ইরানের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলটির অধিনায়ক মেহদি তারেমি মন্তব্য করেছিলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক ফুটবলীয় অনুভূতিগুলোই কাজ করছে না। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে স্থানান্তরিত করার জোরালো দাবি থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা সেই দাবি মেনে নেয়নি। এর ফলে ইরানের প্রতিটি ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সব বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে তারা নিজেদের অনুশীলনের মূল ঘাঁটি অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিয়ে যায়। প্রতিটি ম্যাচের ঠিক আগের দিন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাচ্ছে এবং খেলা শেষ করে দ্রুত আবার মেক্সিকোতে ফিরে যাচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের গোলদাতাদের নাম এবং গোলের সময়ের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| অর্ধাংশ | গোলের সময় | গোল অর্জনকারী দল | গোলদাতার নাম | সহায়তাকারী খেলোয়াড় |
| প্রথমার্ধ | ০৭ মিনিট | নিউজিল্যান্ড | এলিজাহ জাস্ট | ক্রিস উড |
| প্রথমার্ধ | ৩২ মিনিট | ইরান | রেজাইয়ান | একক প্রচেষ্টা |
| দ্বিতীয়ার্ধ | ৫৪ মিনিট | নিউজিল্যান্ড | এলিজাহ জাস্ট | ক্রিস উড |
| দ্বিতীয়ার্ধ | ৬৬ মিনিট | ইরান | মোহেবি | রেজাইয়ান |
আন্তর্জাতিক ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে অত্যন্ত চমৎকার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল প্রদর্শন করেছে। ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। খেলার শুরুর সপ্তম মিনিটেই নিউজিল্যান্ড চমক দেখায়। দলের অধিনায়ক ক্রিস উড ইরানের গোলরক্ষককে কাটিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সতীর্থ এলিজাহ জাস্টের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। তিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের রক্ষণব্যূহের মাঝেই দারুণ এক ভলিতে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেন।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে ইরান নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে। খেলার ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ান বুটের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার চিপ শটে গোল করে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান। বিরতির পর খেলার ৫৪তম মিনিটে আবারও অধিনায়ক ক্রিস উডের চমৎকার পাসে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এলিজাহ জাস্ট। তবে নিউজিল্যান্ডের এই লিড মাত্র ১২ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। ৬৬তম মিনিটে ইরানকে সমতায় ফেরান মোহেবি। রেজাইয়ানের নিখুঁত ও দীর্ঘ পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার হেডের সাহায্যে তিনি বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান। এর পর দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি। খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ও করমর্দন করেন এবং জার্সি বদল করেন। ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি ডাগআউটে একা বসে থাকলেও মাঠের খেলোয়াড়রা পতাকা হাতে আসা হাজারো সমর্থককে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান।