খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে মক্তবে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিগত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরাধমূলক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আনোয়ার (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশ প্রশাসন, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই শিশুটি প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি মসজিদের মক্তবের দিকে রওনা হয়। সে যখন মক্তবের উদ্দেশ্যে পথ অতিক্রম করছিল, তখন পথে ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত আনোয়ার অত্যন্ত কৌশলে শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বা ডেকে রাস্তার পাশের একটি জনমানবহীন খালি বাড়িতে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী শিশুর স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আনোয়ার শিশুটির ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণকার্য চালায়।
নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর শিশুটি কোনোমতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটে যাওয়া সম্পূর্ণ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে অনতিবিলম্বে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাকে নিবিড় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারকে অবরুদ্ধ করে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ স্থানীয়দের হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং থানায় নিয়ে আসে।
উক্ত ঘটনা, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বিবরণ এবং গৃহীত প্রাথমিক পদক্ষেপসমূহের একটি সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | তথ্যের বিবরণ ও খাত | ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও কেস ফ্যাক্টস |
| ১ | ঘটনার তারিখ | ১৬ জুন, মঙ্গলবার। |
| ২ | ঘটনার সময়কাল | সকাল আনুমানিক ০৬:৩০ মিনিট। |
| ৩ | ভুক্তভোগীর বিবরণ | ০৮ বছর বয়সী এক স্থানীয় শিশু কন্যা। |
| ৪ | অভিযুক্তের পরিচয় | আনোয়ার (৪০) [স্থানীয় বাসিন্দা]। |
| ৫ | ঘটনাস্থলের বিবরণ | মক্তবে যাওয়ার রাস্তার পার্শ্ববর্তী একটি খালি বাড়ি। |
| ৬ | বর্তমান চিকিৎসাকেন্দ্র | মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল। |
| ৭ | আইনি পদক্ষেপের স্থিতি | অভিযুক্তকে আটক করে থানা হেফাজতে গ্রহণ। |
| ৮ | তদন্তকারী ইউনিট | শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ, মৌলভীবাজার। |
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ইতিমধ্যে আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার কাজ শুরু করেছে। আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।