জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটিকে বিচার পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা সিয়ামকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ গঠন শুনানির সময় আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে অব্যাহতির কোনো আবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন এবং বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
দুদকের কোর্ট পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এখন মামলার সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করবেন এবং উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ৫ জানুয়ারি সৈয়দ আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্তে তাদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস নিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান চালানো হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, সিয়াম তার বৈধ ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়, যার ভিত্তিতে আদালত বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
অভিযুক্ত
অভিযোগের ধরন
অভিযোগকৃত অর্থের পরিমাণ
সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ
প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা
সৈয়দ আবেদ আলী
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ
৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকা
সৈয়দ আবেদ আলী
সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন
প্রায় ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা
শাহরিন আক্তার শিল্পী
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ
১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা
শাহরিন আক্তার শিল্পী
অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেন
৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকা
তদন্তে আরও উঠে আসে যে, আবেদ আলীর ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুদক। একইভাবে তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর দুটি ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরপর দুদক তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠন কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণের সমার্থক নয়; বরং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে আদালত মনে করেন যে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এখন সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করবেন। ফলে বহুল আলোচিত এ দুর্নীতি মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।