খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নৈতিকতা পরিপন্থী আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাগত সীমার বাইরে গিয়ে একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রস্তুত করা প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এটি উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন সম্পন্ন হলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় আসে ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের একটি নৌকাবিহারকেন্দ্রিক বিনোদন স্থাপনায় ঘটে যাওয়া ঘটনা। ওই ঘটনায় একজন অভিনেত্রী অভিযোগ করেন যে তিনি সেখানে শারীরিক নিপীড়ন ও হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরবর্তীতে ১৪ জুন একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং একজন ব্যবসায়ীকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্বে ছিলেন গোলাম সাকলায়েন।
পরবর্তীতে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলার মূল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপগুলো নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| ধাপ | ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | অভিযোগ উত্থাপন | নৌকাবিহারকেন্দ্রিক ঘটনায় মামলা দায়ের |
| ২ | তদন্ত দায়িত্ব | গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে সাকলায়েন যুক্ত হন |
| ৩ | ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ | তদন্ত চলাকালে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে |
| ৪ | দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার | তাকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে সরানো হয় |
| ৫ | অভ্যন্তরীণ তদন্ত | বিষয়টি যাচাইয়ে কমিটি গঠন |
| ৬ | প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত | বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
এদিকে, সেই সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রী একাধিক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটিকে ঘিরে অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা সামাজিক প্রচারের ফলও হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারও পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্য থাকলে তাকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত তার কাছে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে হয়নি এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা উচিত ছিল। তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই কর্মকর্তার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পেশাগত নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।