খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই দাবিটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। সরকারি সূত্রটির মতে, স্টারমার পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, বরং তিনি এই মুহূর্তে দেশের শাসনকার্য পরিচালনা ও নিজ দায়িত্বে পুরোপুরি মনোনিবেশ করে আছেন।
সংকটের পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত বেশ কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হচ্ছিল। তবে এই রাজনৈতিক সংকট গত শুক্রবার (১৯ জুন) আরও চরম আকার ধারণ করে। ওই দিন অনুষ্ঠিত একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়লাভ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে বার্নহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে প্রবেশ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় নেতৃত্বের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হয়। উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বার্নহ্যাম সেই শর্তটি পূরণ করেছেন, যা কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দ্য অবজারভার ও ডাউনিং স্ট্রিটের বিপরীতমুখী অবস্থান
‘দ্য অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের ভেতর নিজের রাজনৈতিক সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই আকস্মিক উত্থানের কারণেই কিয়ার স্টারমার সোমবার পদত্যাগ করার মতো বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের ঘোষণা বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিচে টেবিলের মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ / ব্যক্তি | রাজনৈতিক অবস্থান ও ঘটনা | বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি |
| কিয়ার স্টারমার | যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী | গত কয়েক মাস ধরে দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে চাপের মুখে আছেন। |
| অ্যান্ডি বার্নহ্যাম | স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী | ১৯ জুন উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন এবং নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। |
| দ্য অবজারভার (পত্রিকা) | ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদন প্রকাশকারী | দাবি করেছে যে, দলীয় সমর্থন হ্রাস ও বার্নহ্যামের উত্থানের কারণে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন। |
| ডাউনিং স্ট্রিট (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) | যুক্তরাজ্যের সরকারি প্রশাসনিক সূত্র | পদত্যাগের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্যে মনোনিবেশ করছেন। |
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ
শুক্রবার অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই নির্বাচনি বিজয় যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সংসদ সদস্য পদ পাওয়ার পর দলের ভেতর স্টারমার-বিরোধী অংশ বার্নহ্যামকে কেন্দ্র করে একত্রিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদিও ডাউনিং স্ট্রিট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবুও সোমবারের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। যদি কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব এবং সরকার গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। অন্যথায়, দলের অভ্যন্তরীণ এই চ্যালেঞ্জ ও বার্নহ্যামের তৈরি করা চাপ মোকাবিলা করেই তাঁকে সরকার পরিচালনা করতে হবে।