খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
ঢাকার সাভারে সবজি ক্ষেতে কৃষি কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সাভার উপজেলার কোন্ডা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান হোসেন বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি দুই কৃষিশ্রমিকের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর থেকে কোন্ডা এলাকাসহ আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানী বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরের পর উপজেলার কোন্ডা এলাকার একটি ফসলি জমিতে কৃষকেরা প্রাত্যহিক কাজ করছিলেন। নিহতদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ কুটি ব্যাপারী (৭০) নিজের সবজি ক্ষেত থেকে ফসল তোলার জন্য অন্য দুই কৃষিশ্রমিককে সাথে নিয়ে কাজে নামেন। তারা তিনজন যখন ক্ষেত থেকে সবজি ও ফসল সংগ্রহ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে ওই এলাকায় হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথেই সেখানে আকস্মিক ও প্রচণ্ড শব্দে একটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতটি সরাসরি তাদের ওপর আঘাত হানলে ফসলি ক্ষেতের মাঝেই ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়।
বনগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য কামরুন্নাহার এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাতের পরপরই স্থানীয় কৃষিজীবী ও আশেপাশের মানুষজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তারা ক্ষেতের মাঝে ওই তিনজনকে অচেতন ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘটনাস্থলেই তাদের প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে থানা পুলিশ ও নিকটস্থ পুলিশ ক্যাম্পে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান হোসেন জানান, বজ্রপাতের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা কুটি ব্যাপারীর পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও তার সাথে থাকা অপর দুই দিনমজুর বা কৃষিশ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা কুটি ব্যাপারীর জমিতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত বাকি দুই ব্যক্তির প্রকৃত নাম, ধাম ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য আশেপাশের এলাকা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন।