খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাবেক এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই মিনহাজ আল-ইসলাম এবং হোমনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে তার উন্নত চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রেখে তাকে চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার সন্ধ্যায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সেলিমা আহমাদ মেরী কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও নারী জাগরণে তার অনন্য ভূমিকা ছিল। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও সুপরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন।
ব্যবসায়িক অঙ্গনে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে প্রথম নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল ও জাতীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেলিমা আহমাদ মেরী জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। হোমনা ও তিতাস এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এলাকার জনগণের সার্বিক কল্যাণে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করতেন, যার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।
সেলিমা আহমাদ মেরীর মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-২ আসনসহ দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংককের হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তার মরদেহ বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশে মরদেহ পৌঁছানোর পর তার জানাজার নামাজ এবং দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সাবেক এই নারী নেত্রীর চলে যাওয়া দেশের রাজনীতি ও নারী উদ্যোক্তা খাতের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।