খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। পরিবারের খোঁজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন এই ডিফেন্ডার, যা দ্রুতই আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সময় ২৪ জুন রাতে ভেনেজুয়েলায় একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.২ ও ৭.৫। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। সরকারি ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তা এখনো যাচাইাধীন।
এই বিপর্যয়ের মধ্যেই সবচেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী লুকাস ত্রেহো। তিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরার হয়ে খেলছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে অবস্থান করার কারণে ভেনেজুয়েলাই তার দ্বিতীয় আবাস হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই ভূমিকম্পে প্লায়া গ্রান্দেতে তার বসবাসের ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।
ত্রেহোর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারটি ভবনের ভেতরে ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই তিনি বার্তা ছড়ান সামাজিক মাধ্যমে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আমাদের ভবনটি প্লায়া গ্রান্দেতে ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। কেউ যদি তাদের দেখে থাকেন, এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা তখন ভেতরে ছিল না।”
তার এই আহ্বান দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা ও অন্যান্য দেশের ফুটবল সমর্থকরা তার পরিবারের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকেই উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। ভারী ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ব্যাপক হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু ভেনেজুয়েলাকেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের হৃদয়েও গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। ফুটবলারের পরিবারের ভাগ্য এখনো অজানা থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে, আর অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে।