খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ভারতের অভ্যন্তরে নিহত বাংলাদেশি যুবক বারিকুল ইসলামের (৩৫) মরদেহ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দূর্লভপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)- ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উপস্থিতিতে (ক্যাজুয়াল মিটিং) মরদেহ দেওয়া হয়।
তিনি শিবগঞ্জের দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নামোজগন্নায়পুর স্কুলছাম গ্রামের সেতাবুল হকের ছেলে। শিবগঞ্জ পুলিশ মরদেহ বুঝে পেয়ে উপস্থিত বারিকুলের বাবা-মা, ছোট ভাই সুমন, প্রতিবেশী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ইকবাল হোসেনের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতের মধ্যে কোনো এক সময় তিনি নিখোঁজ হন বলে দাবি করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
অপর সূত্র দাবি করে, তিনি রাতে সীমান্তের পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আটক হন।
তবে সংশ্লিষ্ট ৫৩ বিজিবি তখন ঘটনাটি নিশ্চিত করেনি। পরে ৫৩ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মনির-উজ-জামান বলেন, বিজিবি তিন দিন পর এ ব্যাপারে পরিবারের অভিযোগ পেয়েছে। বারিকুলকে কৃষক দাবি করেছে পরিবার।
অভিযোগ পেয়ে বিজিবি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফকে নিখোঁজের সন্ধান চেয়ে তথ্য ও ছবি দেওয়া হয়েছে।
অধিনায়ক মনির আরো বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএসএফ একটি মরদেহ পাওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে মৃত্যুর কারণ জানায়নি। তারা জানায়, মরদেহ ভারতীয় পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মরদেহটি বারিকুলের মর্মে শনাক্তের প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার মরদেহ ফেরত দিল ভারত। তবে কিভাবে বারিকুল নিহত হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তবে আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বিএসএফ জানিয়েছে, তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। বিষয়টি চোরাচালান সংক্রান্ত কিনা সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। বিএসএফ ১১৫ ব্যাটালিয়নের বাজিতপুর ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান অধিনায়ক মনির।
মরদেহ গ্রহণকারী শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসান আলী বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করা ছিল। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়নি ভারতীয় পুলিশ। এ ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বারিকুল নিখোঁজের ব্যাপারে তার পরিবার গত ১০ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা হাসান।
খবরওয়ালা/এমবি