খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে জড়িত থাকা ২২ জন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পাসপোর্ট বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকার। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা একদলীয় পরিবেশে নির্বাচনের সময় ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপিতে অংশ নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্টার বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এই কর্মকর্তারা ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে নানা ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মে জড়িত ছিলেন, যার ফলে নির্বাচনী ফলাফল সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে দেশব্যাপী ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপর ওই নির্বাচনগুলোকে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এবং জনগণ অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
পাসপোর্ট বাতিলের পর তারা এখন দেশত্যাগ করতে পারবেন না। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ৭ (২)(সি) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২২ জন কর্মকর্তার পাসপোর্ট বাতিল করা হচ্ছে এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পাসপোর্ট বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন সাবেক সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, আবু হেনা মোরশেদ জামান, কামরুল হাসান, অতিরিক্ত সচিব হামিদুল হক, মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, ওয়াহিদুল ইসলাম, এসএম আলম, এনামুল হাবিব, শওকত আলী, রাব্বি মিয়া, ফয়েক আহমেদ, উম্মে সালমা তানজিয়া, সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ মাসুদ করিম, কামরুন নাহারা সিদ্দিকা, আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদাওস খান, তোফায়েল ইসলাম, আহমেদ কবির, সায়লা ফারজানা এবং তন্ময় দাস।
এদের অধিকাংশই ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের সময়কালীন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এই কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোট কারচুপির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের অংশ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে একটি শক্তিশালী বার্তা।
খবরওয়ালা/জেআর