খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৫ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে ‘ডাকাত সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন দুজন । গত সোমবার (৩মার্চ) রাত ১০টায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন।
নিহত দুজন হলেন উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যমকাঞ্চনা এলাকার নেজাম উদ্দিন (৪৬) এবং একই ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকার আবু ছালেক (৩৮)। তাঁরা দুজনই জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সাতকানিয়া থানার পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি দলীয় প্রোগ্রামে ব্যস্ত বলে জানান তার ব্যক্তিগত সহকারী রিপন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত সোমবার (৩মার্চ) রাত ১০টার মধ্যে চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে একদল যুবক ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত আসছে, ডাকাত আসছে’ এমন ঘোষণার পর লোকজন জড়ো হয়ে বহিরাগত অস্ত্রধারী যুবকদের ঘিরে ফেলে। এরপরই বহিরাগত যুবকেরা গুলি চালাতে থাকেন।
এ সময় চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এই চারজনের মধ্যে তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক দোকানি। তাঁরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়রা বলছেন, নেজাম, ছালেকদের গুলিতে ওই ব্যক্তিরা আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, একপর্যায়ে গুলি শেষ হলে বহিরাগতরা অদূরে রাখা তাঁদের গাড়িগুলোর দিকে এগোতে থাকেন। কিন্তু এর মধ্যে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে নেজাম, ছালেকসহ বহিরাগতদের কয়েকজনকে ধরে গণপিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যুবক নিহত হন। এক যুবকের লাশের পাশ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি বিদেশি। ধারণা করা হচ্ছে, গত ৫ আগস্ট কোনো থানা থেকে লুট হয়ে অস্ত্রটি এই যুবকদের হাতে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছনখোলা ও কাঞ্চনা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ছনখোলা গ্রামে আওয়ামী লীগ আমলে স্থানীয় চেয়ারম্যান মানিকের আধিপত্য ছিল। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর মানিক এলাকা ত্যাগ করলে নেজাম উদ্দিন এলাকায় ফেরেন। এরপর থেকে মানিক চেয়ারম্যানের বাড়িঘর, গরুর খামার, ইটভাটা, বাগান লুট করেন নেজাম ও তাঁর বাহিনী। শুধু ছনখোলা গ্রামের মানিক চেয়ারম্যানের বাড়িই নয়, নেজাম বাহিনীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কাঞ্চনা, এওচিয়া, চরতি, আমিলাইশ এলাকায়ও পৌঁছেছে। ঘটনার দিনও লুটপাটের উদ্দেশ্যে নেজাম বাহিনী ছনখোলা গ্রামে গিয়েছিল।
সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোসাইন বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পলাতক সন্ত্রাসী মানিক চেয়ারম্যান ও তাঁর ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের দুই কর্মীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’
খবরওয়ালা/এমইউ