খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৫ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৩ মার্চ) নেসেট অধিবেশন চলাকালে ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে রক্ষীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদসহ কয়েকজন বিরোধী এমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধস্তাধস্তির এই ভিডিও শেয়ার করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি এনজিওর কয়েকজন সদস্যের নেসেটে প্রবেশের চেষ্টাকে ঘিরে এই ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিন যোদ্ধাদের হামলায় যেসব ইসরায়েলি আহত, নিহত এবং অপহৃত হয়েছিলেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের এনজিওটি। এই এনজিওতে নথিভুক্ত পরিবারের সংখ্যা ১৫০০। তারা বরাবরই গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে আসছেন।
সোমবার নেসেট অধিবেশনে ইসরায়েরের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তার বক্তব্যের আগে অধিবেশনে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়ে স্পিকার আমির ওহানা বরাবর চিঠি দিয়েছিল অক্টোবর কাউন্সিল।
সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে অক্টোবর কাউন্সিলের বেশ কয়েকজন সদস্য নেসেট ভবনে হাজির হয়ে অধিবেশনে প্রবেশ করতে চান। এ সময় রক্ষীরা তাদের বাধা দিলে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয় অক্টোবর কাউন্সিলের সদস্যদের। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই বাদানুবাদ পরিণত হয় ধস্তাধস্তিতে।
ধস্তাধস্তির জেরে দুজন আহত হওয়ার পর নেসেটের সিড়িতে অবস্থান নেন অক্টোবর কাউন্সিলের সদস্যরা। এ সময় তারা ক্যাডিশ আবৃত্তি করতে থাকেন এবং নিহত ও জিম্মিদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন। কিছু সময় এই পরিস্থিতি চলার পর নেসেট অধিবেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় অক্টোবর কাউন্সিলের সদস্যদের।
অনুমতি পাওয়ার পর তারা প্রবেশ করেন এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় তারা তারা নেতানিয়াহুকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে দাঁড়ান। সেই সঙ্গে নিহত ও জিম্মিদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও তুলে ধরেন তারা। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিদায় নেন অক্টোবর কাউন্সিলের সদস্যরা।
২০২৩ সালের অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় হামাসের যোদ্ধারা। ইসরায়েলের ইতিহাসে এর আগে এত বড় ও ভয়াবহ হামলা ঘটেনি। হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৫ মাস ধরে চলা সেই নির্মম অভিযানে গাজায় নিহত হয়েছেন ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন লক্ষাধিক।
খবরওয়ালা/আরডি