খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব (প্রশাসন) সিনিয়র জেলা জজ বিকাশ কুমার সাহা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (১০ মার্চ) তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি আগামী ১০ এপ্রিল থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তাকে গত ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল তারিখে সহকারী জজ পদে যোগদান করে নিয়মিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র জেলা জজ) হিসেবে কর্মরত আছি। বর্তমানে আমার চাকরিকাল ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে। আমি ব্যক্তিগত কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৫ থেকে সরকারি চাকরি হতে ঐচ্ছিক অবসর গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।’
এর আগে গত ২ মার্চ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে একটি শোকজ নোটিশ দেয় মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আনিসুল হক আইনমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মের মাধ্যমে সারা দেশের আদালতগুলোয় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার লোক নিয়োগ করা হয়েছে। সব নিয়োগ হয়েছে মূলত টাকার বিনিময়ে। শুধু আদালতেই নয়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও বড় ধরনের ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’ করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী। নিয়োগ-বাণিজ্যের পাশাপাশি করেছেন বদলি ও মামলায় তদবির-বাণিজ্য। নিয়োগ, বদলি আর তদবির-বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন। এভাবে অবৈধভাবে অর্জিত টাকায় গড়েছেন নিজের ‘সিটিজেন ব্যাংক’। মন্ত্রীর এসব অপকর্মে সহযোগিতার জন্য গড়ে তুলেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।
গত ২ মার্চ ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহাকে (ওএসডি) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগের ওএসডি কর্মকর্তা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বিকাশ কুমার সাহা যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে কক্সবাজার জেলা জজ আদালত, চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালত ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থায় কর্মচারীদের শূন্য পদে অভিযোগকারী মো. জাফর আহমেদসহ উক্ত অভিযোগে বর্ণিত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনদের চাকরি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। অভিযোগে উল্লিখিত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ঘুষ হিসেবে অগ্রিম ৪০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই চাকরিপ্রার্থীদের কোনো চাকরি প্রদান না করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন এবং টাকা প্রদানকারীরা ওই টাকা ফেরত চাইলে তিনি তার পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার ভীতি প্রদর্শন করেন।
নোটিশে বলা হয়েছিল, বিকাশ কুমার সাহার উক্তরূপ কার্য অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত, অবিবেচনাপ্রসূত ও অবিচারকসূলভ মনোভাব তথা একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার জন্য অপ্রত্যাশিত ও দুর্নীতিমূলক কাজ হিসেবে গণ্য, যা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২(চ) ও ২(ঠ) অনুযায়ী যথাক্রমে অসদাচরণ ও দুর্নীতিমূলক কার্যের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ। সে কারণে ওই বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার উক্ত আচরণ ও দুর্নীতিমূলক কার্যের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর ৩(২) বিধি অনুযায়ী আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (বর্তমানে ওএসডি কর্মকর্তা) বিকাশ কুমার সাহার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ফটোকপি প্রেরণ পূর্বক ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে তার লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয় ওই নোটিশে।
খবরওয়ালা/ এমএজেড