খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়টি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
গত ৭ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর ২৪ জানুয়ারি বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন তিনি।
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়ে এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা যখন উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই তিনি দেশে ফিরবেন।
তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসক জানান, তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। ঘরের ভেতরে নিজে নিজে হাঁটাচলা করতে পারছেন এবং নিজ হাতে খাবার খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দিন আনন্দেই কাটছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়া নিজেও দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। ঈদের পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি মেলেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি মুক্তি পান এবং এরপরই চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান।
এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পরে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাকে। কোভিড মহামারির সময় সরকার নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দিলেও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা বিএনপি তখন সরকারের বিরুদ্ধে গৃহবন্দিত্বের অভিযোগ হিসেবে তুলেছিল।
খবরওয়ালা/জেআর